ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২০ জ্বিলকদ ১৪৪৫

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ রোল মডেল: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ রোল মডেল: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। শেখ হাসিনা সংলাপের মাধ্যমে সকল দ্বন্ধ-সংঘাত নিরসন, চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং অস্ত্র প্রতিযোগিতার অর্থ মানবজাতির কল্যাণে ব্যয় করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আভ্যন্তরীণ শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি বৈশি^ক শান্তি প্রতিষ্টার প্রচেষ্টায় একটি দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য নাম। আমরা সর্বজন স্বীকৃত এবং বিশ্বের বুকে একটি রোল মডেল।’ প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৪’ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি বলেন, জাতির পিতার পররাষ্ট নীতি ’সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’, বিশ^শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতার অঙ্গীকার ও আমাদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করে বাংলাদেশ জাতিসংঘের ‘ব্লু হেলমেট’ পরিবারের সদস্য হয়। সরকার প্রধান বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ১৩টি স্থানে ৪৯৩ জন নারীসহ ৬০৯২ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা যেখানে কাজ করছে সেসব রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রশংসা শুনে গর্বে আমার বুকটা ভরে যায়।’ শেখ হাসিনা বলেন, শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আজ একটি দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য নাম। আমরা সর্বজন স্বীকৃত এবং বিশে^র বুকে রোল মডেল। এই অর্জনের পেছনে রয়েছে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর টেকসই. পরিশ্রমী নিবেদিত প্রাণ সদস্যদের মহান আত্মত্যাগ ও অমূল্য অবদান। তিনি ১৬৮ বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের অবদানের কথা স্মরণ করেন যারা বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগ করেছেন এবং ২৬৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শান্তিরক্ষায় অবদান রাখতে গিয়ে আত্মোৎসর্গকারীদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও সমবেদনা জানান তিনি। স্বজন হারাবার বেদনা যে কি, তিনি তা জানেন বলেও এ সময় উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জাতিসংঘ শাস্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ৩৬ বছর উদযাপন করছি। বাংলাদেশ আজ বিশে^র বৃহৎ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারি দেশ এবং সকলে অত্যন্ত সুনাম ও গৌরবের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। তিনি এ সময় বিশে^র নানা প্রান্তে কর্মরত সকল বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের শুভেচ্ছা জানান। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণ করে আমরা বিশ^ শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছি। শান্তিরক্ষা মিশন ছাড়াও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরাম গুলোতেও আমরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ ও অবদান রাখছি। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশের জাতিসংঘে ‘কালচার অব পিস’ (শাস্তির সংস্কৃতি) প্রস্তাব উত্থাপন করে যা ১৯৯৯ সালে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, সেই থেকে প্রতিবছর জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘ফ্লাগশিপ রেজ্যুলেশন’ এই ‘কালচার অব পিস’ সর্বস্মতিক্রমে গৃহীত হয়ে আসছে। পরবর্তীতে জাতিসংঘ ২০০০ সালকে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার অব কালচার অব পিস’ হিসেবে ঘোষণা করে। যার মাধ্যমে শান্তির সংস্কৃতি প্রস্তাবের ২৫ তম বর্ষ উদযাপিত হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এজেন্ডা ২০৩০ বাস্তবায়নে কালচার অব পিস প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য বলে আমার বিশ্বাস।’ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গুয়েন লুইস। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আহত তিন জনের হাতে সম্মাননা তুলে দেন। তিনি ইউএন পিস কিপার্স জার্নাল এর (১০ম ভলিউম) মোড়কও উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগকারী বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের কৃতিত্বের ওপর একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র ও প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে কর্মরত বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদেও সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। জাতির পিতা নিজেকে বিশ্বের শোষিত-বঞ্চিত ও নির্যাতিত মানুষের দূত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘জাতির পিতা বলতেন-বিশ্ব আজ দু’ভাগে বিভক্ত শোষক ও শোষিত, আমি শোষিতের পক্ষে।’ তাই সব সময় তিনি শোষিত মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতা রোধ, সাম্য-মৈত্রী, গণতন্ত্র রক্ষা এবং বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ ‘বিশ্ব শান্তি পরিষদ’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৩ সালের ২৩ মে ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদকে ভূষিত করে। জাতির পিতা সেই পদক উৎসর্গ করেছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী বীর শহীদ এবং সেনানীদের। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দ্বন্দ্ব সংঘাত, যুদ্ধ আজ বিশ্ব শান্তি বিঘ্নিত করছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজার ইসরায়েলি হামলায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু। সেখানে গণহত্যা চলছে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা ইত্যাদি মানবজাতির জন্য এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, আমি ঠিক জানি না এই সংঘাত বা যুদ্ধ মানব জাতির জন্য কী কল্যাণ বয়ে আনছে। অস্ত্র প্রতিযোগিতা প্রতিনিয়ত যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, ততই মানুষের জীবন আরো বেশি দুর্বিসহ হয়ে উঠছে। বিশেষকরে নারী-শিশুরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। যুবকরা অকাতরে জীবন দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যুদ্ধ চাইনা, শান্তি চাই। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সব কিছু সমাধান করতে চাই। তিনি বলেন, বিশে^ এখনও বিপুল সংখ্যক মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে রয়েছে। কোটি কোটি মানুষ দু’বেলা খাবার পায় না। রোগের চিকিৎসা পায় না। শিশুরা শিক্ষা পায় না। তারা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। যারা অস্ত্র তৈরি এবং অস্ত্র পতিযোগিতায় এত অর্থ ব্যয় করছে তাদের কাছে আমার আহ্বান-আমরা শান্তির কথা বলি কিন্তু সংঘাতে লিপ্ত হই কেন? সরকার প্রধান বলেন ‘এই যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে এই অর্থ যদি ক্ষুধার্ত মানুষের আহারের ব্যবস্থা, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থায় ব্যয় হতো তাহলে এই পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতো। মানুষের জীবনমান উন্নত হতো। মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচতে পারতো। কিন্তু এই সংঘাত প্রতিনিয়ত মানুষকে আরো কষ্টের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কাজেই আমি সবসময় যেখানেই যাই এই একটি আহবানই জানাই সংঘাত নয়, যদি কোন সমস্যা থাকে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার। সেটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কাজ।’ তিনি আরও বলেন, ‘সেই সাথে এই অস্ত্র তৈরি আর প্রতিযোগিতার অর্থ যে সমস্ত দেশ এখনো জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে সেই জলবায়ুর অভিঘাত থেকে মানবজাতিকে রক্ষার জন্য সেই তহবিলে সেই অর্থ দিতে পারেন। তাছাড়া ক্ষুধার্ত ও শিক্ষাবঞ্চিত যে সমস্ত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নয়নে ব্যবহার করতে পারেন। সেই আহবান আজকে আমি সকলকে জানিয়ে যাচ্ছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, নারীর অধিকার এবং লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতে তাঁর সরকারের পদক্ষেপ ‘উইমেন পিস এন্ড সিকিউরিটি এজেন্ডা’ তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বর্তমানে অন্যতম বৃহৎ নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণকারি দেশ হিসেবেও পরিচিতি লাভ করছে। এই পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বমাট ৩ হাজার ৩৮ জন নারী শান্তিরক্ষী সফলতার সঙ্গে মিশন সম্পন্ন করেছেন। এজন্য আরো অধিক পরিমানে নারী শান্তি রক্ষী প্রেরণেরও দাবি উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দি সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস’ এর আহবানে একাত্মতা ঘোষণা করে দারিদ্রের অবসান, পরিবেশ ও জলবায়ু রক্ষা এবং জনগণের শান্তি ও সম্প্রীতি নিশ্চিতকল্পে বাংলাদেশে নিয়োজিত জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি এই মহতী উদ্যোগে বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য বাংলাদেশে নিয়োজিত জাতিসংঘের বিভন্ন সংস্থাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও জানান। দেশব্যাপী কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা এবং সেখান থেকে জনগণকে ৩০ প্রকারের ওষুধ বিনামুল্যে প্রদানে সরকারের পদক্ষেপের উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, আমাদের কমিউনিটি ক্লিনিকের অনুকরণে সম্প্রতি সেন্ট্রাল আফ্রিকা রিপাবলিকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সহায়তায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সে দেশের প্রেসিডেন্টের নামে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক চালুর জন্যও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে জাতির পিতার প্রতি এই সম্মাননা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য একটি গৌরবের অধ্যায়।’ শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব শান্তি নিশ্চিত করা এখন অতীতের চেয়ে অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তির সাম্প্রতিক প্রসার ও অগ্রযাত্রার সাথে সাথে বাড়ছে নতুন নতুন হুমকি। ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনগুলোতে শান্তিরক্ষীদের বহুমাত্রিক জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হচ্ছে। তাই শান্তিরক্ষা মিশনগুলো উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে সমৃদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা এখন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিশন এলাকার পরিবেশ, আবহাওয়া এবং ভূমির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নত প্রযুক্তির সামরিক সরঞ্জামাদি ও পোষাকসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট সমূহে অত্যাধুনিক ‘মাইন রেসিষ্ট্যান্ট অ্যামবুশ প্রটেকটেড’ যানবাহন এবং শান্তিরক্ষীদের যোগাযোগের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন এবং প্রশিক্ষণ একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীগণ যাতে বিশে^র সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং এবং বিপজ্জনক অঞ্চলসমূহে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে সেজন্য তাদের সময়োপযোগী প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ সময় তিনি শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণে ’৯৬ সালে প্রথমবার সরকারে এসেই ‘বিপসট’ (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং) প্রতিষ্ঠার উল্লেখ করেন। যা এখন আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেয়েছে।

‘বঙ্গবন্ধু বাঙালির আত্মপরিচয়কে পূর্ণতা দিয়েছেন’

‘বঙ্গবন্ধু বাঙালির আত্মপরিচয়কে পূর্ণতা দিয়েছেন’

ইতিহাসের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বঙ্গবন্ধু তার প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করে বাঙালির আত্মপরিচয়কে পূর্ণতা দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ। মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে বাংলাদেশ পলিটিক্যাল সায়েন্স নেটওয়ার্কের (বিপিএসএন) বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের উত্থান শীর্ষক বিশেষ বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসকে লাহোর প্রস্তাব বা ভাষা আন্দোলন দিয়ে বিচার করলে তা হবে আংশিক, অপূর্ণাঙ্গ। বাংলাদেশের উত্থানকে বুঝতে হবে বাঙালির হাজার বছরের সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় নির্মাণের ধারাবাহিকতায়। বাংলা ভাষার বিবর্তন, বাঙালির সংশ্লেষণবাদী ধর্মবিশ্বাস এবং স্বতন্ত্র জীবনধারা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে বাঙালির আত্মপরিচয়কে পরিপূর্ণতা দিয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ে দুর্গতদের পাশে থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঘূর্ণিঝড়ে দুর্গতদের পাশে থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঘূর্ণিঝড় রিমালের ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণে রাত ২টা পর্যন্ত জেগে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রতিটি জেলার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত দুর্গতদের পাশে সরকারি কর্মকর্তাদের থাকতে বলেছেন। তাঁদের গতানুগতিক অবস্থার বাইরে এসে কাজ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুস সালাম এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার। এ সময় পরিকল্পনাসচিব সত্যজিত কর্মকার, কৃষি, পানি ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) আব্দুল বাকী উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনাসচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার যথাযথ হিসাব বের করতে হবে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে যেসব ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এসেছে তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। রিমালে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তা ছাড়া দ্রুত দুর্গত এলাকায় খাবার পানির ব্যবস্থা করতে বলেছেন। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন, ওই রাতেই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। ঘূর্ণিঝড় রিমালে ল্যান্ডফোনের গুরুত্ব সামনে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও স্টেকহোল্ডারকে ল্যান্ডফোনে গুরুত্ব দিতে বলেছেন। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই একনেক সভাটি ঐতিহাসিক। প্রথম পিপিএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে একটি প্রকল্প উপস্থাপন ও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একনেক সভায় রোহিঙ্গাদের উন্নয়নসহ ১১ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৩৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ছয় হাজার ৫৪১ কোটি ৫২ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ সহায়তা থেকে সাত হাজার ৮৭৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৮৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। পরিকল্পনাসচিব জানান, সভায় রোহিঙ্গাদের উন্নয়নে আট হাজার ৪৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়নে চার হাজার ৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে হোস্ট অ্যান্ড ফোরসিবিলি ডিসপ্লেসড মিয়ানমার ন্যাশনালস ডিসপ্লেসড রোহিঙ্গা পপুলেশন এনহান্সমেন্ট অব লিভস থ্রো এ মাল্টি-সেক্টরাল অ্যাপ্রোচ প্রজেক্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার রিলেটেড প্রজেক্ট এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে চার হাজার ৪০১ কোটি টাকা ব্যয়ে ইনক্লুসিভ সার্ভিসেস অ্যান্ড অপরচুনিটিস ফর হোস্ট কমিউনিটিজ অ্যান্ড এফডিএমএন পপুলেশন প্রজক্ট অনুমোদন দেওয়া হয়। রোহিঙ্গাদের প্রকল্প সম্পর্কে পরিকল্পনাসচিব বলেন, মিয়ানমারের ক্ষতিগ্রস্ত ও স্থানীয়দের জন্য নেওয়া প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক এক বছরের জন্য অনুদান দেবে। তা ছাড়া কিছু ঋণও দেওয়া হবে। শুরুতে বিশ্বব্যাংক ও দাতারা শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য দিতে চেয়েছিল, পরে আলাপ করে সেখানকার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্যও চাওয়া হলে তা দিতে রাজি হয়েছে। এসব টাকায় যোগাযোগ তথা রাস্তা, রেলপথ নির্মাণ করা হবে। যে বন ও পাহাড় নষ্ট হয়েছে তা উন্নয়ন করা হবে। এসব বাস্তবায়ন করতে তিন-চার বছর সময় লাগবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে বনাঞ্চল নষ্ট হয়েছে তা উন্নয়নে কাজ করা হবে। সচিব জানান, বিশ্ব সাহায্য সংস্থা কথা দিয়েছিল তারা শুধু রোহিঙ্গাদের অর্থায়ন করবে। পাশের জেলাগুলোর মানুষের ভৌত উন্নয়নে সার্বিকভাবে কাজ করতে হবে। এসব নিয়ে সমন্বয় করতে হবে। সাতটি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এটি একসঙ্গে করাটা কঠিন। এটি চ্যালেঞ্জিং ও গুচ্ছ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী তাঁর অনুমোদন দিয়েছেন। একনেকে অনুমোদিত অন্যা প্রকল্পগুলো হচ্ছে চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার কর্ণফুলী নদী এবং সংযুক্ত খালগুলোর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন রোধকল্পে তীর সংরক্ষণ কাজ প্রকল্প। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলায় টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প। নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলায় ৪৮ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন চালের আধুনিক স্টিল সাইলো নির্মাণ প্রকল্প। রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ফর রিপারপাসিং অব অ্যাগ্রিকালচারাল পাবলিক সাপোর্ট টুয়ার্ডস আ সাসটেইনেবল ফুড সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন ইন বাংলাদেশ প্রকল্প। বিআইডাব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক, আটটি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্প। কুমিল্লা-লালমাই-চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর-বেগমগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা এবং বেগমগঞ্জ-সোনাইমুড়ী-রামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে পানি শোধনাগার ও গভীর নলকূপ স্থাপন প্রকল্প।

প্রধানমন্ত্রী ঝড়কবলিত পটুয়াখালী পরিদর্শনে যাচ্ছেন কাল

প্রধানমন্ত্রী ঝড়কবলিত পটুয়াখালী পরিদর্শনে যাচ্ছেন কাল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের অংশ হিসেবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় যাচ্ছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. নূর কুতুবুল আলম এ তথ্য জানিয়ে বলেন, আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে, আগামী ৩০ মে প্রধানমন্ত্রী পটুয়াখালী সফর করবেন। তবে আমরা এখনো অফিসিয়ালি কোনো চিঠি পাইনি। প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে আমরা কাজ করছি। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছি আমরা। এ ব্যাপারে গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন। প্রথম দিকে তিনি আগামী বৃহস্পতিবার পটুয়াখালীর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করতে পারেন। সময় পেলে খুলনায়ও যেতে পারেন তিনি।’ গত ২৬ মে রাত থেকে ২৭ মে শেষ রাত পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যায় ঘূর্ণিঝড় রেমাল। এর প্রভাবে ঝড়, বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসে দেশের বিভিন্ন জেলার মতো উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, বিধ্বস্ত হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, নষ্ট হয়েছে ফসল, ভেঙে গেছে গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে তার ছিড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অসংখ্য এলাকা।

আইএমও’র মহাসচিব বাংলাদেশ সফরে আসছেন আজ

আইএমও’র মহাসচিব বাংলাদেশ সফরে আসছেন আজ

বাংলাদেশ সফরে আসছেন ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) মহাসচিব আর্সেনিও অ্যান্টোনিও ডোমিনগেজ ভেলাসকো। আজ রাতে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তিনি আইএমও’র ১০ম মহাসচিব। আইএমও জাতিসংঘের শিপিংসংক্রান্ত সর্বোচ্চ বিশেষায়িত সংস্থা। এটি শিপিং সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং জাহাজ দিয়ে সামুদ্রিক ও বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ প্রতিরোধের দায়িত্ব নিয়ে বিশ্বব্যাপী কাজ করে থাকে। বর্তমানে আইএমও’র সদস্য রাষ্ট্র ১৭৬টি। আইএমও’র প্রধান কার্যালয় লন্ডনে অবস্থিত। আর্সেনিও অ্যান্টোনিও ডোমিনগেজ ভেলাসকো আগামীকাল বৃহস্পতিবার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে সম্মান প্রদর্শন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। একইদিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এবং নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদান করবেন। বিকালে তিনি নৌপরিবহণ অধিদপ্তর পরিদর্শন করবেন। সেখানে এস্টাবলিশমেন্ট অব গেøাবাল মেরিটাইম ডিসট্রেস অ্যান্ড সেইফটি সিস্টেম অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড মেরিটাইম নেভিগেশন সিস্টেম (ইজিআইএমএনএস) প্রকল্পের বিষয়ে তাকে অবহিত করা হবে। ডোমিনগেজ ৩১ মে সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। সেখানে ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ভিটিএমআইএস), মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, সিঙ্গেল বয়া মুরিং ও অন্যান্য বন্দরের ওপর তাকে ব্রিফ করা হবে। মহাসচিব সেদিন বিকালে চট্টগ্রামে শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড পরিদর্শন করবেন। পরের দিন পহেলা জুন চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমি পরিদর্শন করবেন। সেখানে বাংলাদেশে মেরিটাইম শিক্ষাব্যবস্থার ওপর তাকে ব্রিফিং করা হবে। চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমি, মেরিন ফিশারিজ একাডেমি এবং ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের ক্যাডেটরা চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করবেন। এছাড়া ওয়ার্ল্ড মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি ও ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ল’ ইনস্টিটিউটের গ্রাজুয়েট ছাত্ররা তাকে সংবর্ধনা দেবেন। সন্ধ্যায় ঢাকায় তার সৌজন্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ২ জুন সকালে তিনি যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। বর্তমান মহাসচিব ২০২৩ সালের জুলাই মাসে আইএমও’র মহাসচিব নির্বাচিত হন। ওই বছরের ডিসেম্বরে আইএমও’র ৩৩তম অ্যাসেম্বলিতে সেটি অনুমোদিত হয়। চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি তার কার্যক্রম শুরু হয়। চলবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত। গত বছরের ১ ডিসেম্বর আইএমও নির্বাহী পরিষদে নির্বাচনে বাংলাদেশ ২০২৪-২০২৫ সালের জন্য ক্যাটাগরি ‘সি’তে জয়লাভ করেছে।

শান্তিরক্ষা-শান্তি বিনির্মাণ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

শান্তিরক্ষা-শান্তি বিনির্মাণ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, শান্তি স্থাপনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে সংশ্লিষ্ট দেশের জনগণের আস্থা অর্জন করার ফলে আমরা জাতিসংঘে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশের মর্যাদা লাভ করেছি। বুধবার (২৯ মে) ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৪’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৪’ পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ দিবস উপলক্ষ্যে নির্ধারিত প্রতিপাদ্য, ‘ফিট ফর দ্য ফিউচার : বিল্ডিং বেটার টুগেদার’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি। শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা আমি গর্বভরে স্মরণ করছি এবং শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশের সব সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। বিশ্বশান্তির জন্য অকাতরে জীবন বিসর্জনকারী শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। আমি তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে এবং একই বছর ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলায় প্রদত্ত তার ঐতিহাসিক ভাষণে বলেছিলেন, ‘মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য শান্তি একান্ত দরকার। এই শান্তির মধ্যে সারা বিশ্বের সকল নর-নারীর গভীর আশা-আকাঙ্ক্ষা মূর্ত হয়ে রয়েছে। ন্যায়নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত না হলে শান্তি কখনো স্থায়ী হতে পারে না।’ সাধারণ অধিবেশনে তিনি বিশ্বের সর্বত্র শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অব্যাহত সমর্থনের বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তখন থেকেই বাংলাদেশ বিশ্বের শান্তিপ্রিয় ও বন্ধুপ্রতিম সব রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলছে এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের অধীনে পরিচালিত সব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে। বিশ্ব শান্তি ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ১৯৭৩ সালের ২৩ মে ‘জুলিও-কুরি শান্তি পদক’-এ ভূষিত করা হয়েছে। সরকার প্রধান বলেন, জাতির পিতার দর্শন অনুসরণ করে বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তির একনিষ্ঠ প্রবক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আমরা ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ সংক্রান্ত ঘোষণা এবং কর্মসূচি রেজ্যুলেশন আকারে উত্থাপন করি, যা ১৯৯৯ সালে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। পরে জাতিসংঘ ২০০০ সালকে ‘আন্তর্জাতিক শান্তির সংস্কৃতি বর্ষ’ হিসেবে এবং ২০০১-২০১০ সময়কালকে ‘শান্তির সংস্কৃতি এবং অহিংসার দশক’ হিসেবে ঘোষণা করে। শান্তির বার্তাকে সর্বাত্মকভাবে সুসংহত করতে এবং অ্যাজেন্ডা ২০৩০ বাস্তবায়নে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য বলে বাংলাদেশ মনে করে। শেখ হাসিনা বলেন, নারীর অধিকার ও জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করতে আমাদের প্রচেষ্টা ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডা’ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছে। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আমাদের নারীদের অংশগ্রহণের ফলে বাংলাদেশের সুনাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা যাতে আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিতে পারেন, সেজন্য আওয়ামী লীগ সরকারের সব প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। আমি আশা করি, শান্তিরক্ষী সদস্যরা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে তাদের বীরত্বপূর্ণ সাহস দ্বারা বাংলাদেশকে বিশ্বে একটি শক্তিশালী শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেন; সংঘাত প্রতিরোধ, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, মানবাধিকার নিশ্চিত ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন এবং দেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর করবেন। প্রধানমন্ত্রী ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৪’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন এবং সব শান্তিরক্ষীর সাফল্য ও মঙ্গল কামনা করেন।

বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তিরক্ষায় এক অনন্য নাম

বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তিরক্ষায় এক অনন্য নাম

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তিরক্ষায় এক অনন্য নাম। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহ বন্ধে ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সোচ্চার ও জোরালো ভূমিকা পালন করছে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে শান্তি ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে। বুধবার (২৯ মে) ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৪’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৪’ পালনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। তিনি এ উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশ ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের সব শান্তিরক্ষীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। একইসঙ্গে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও রক্ষার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আত্মোৎসর্গকারী বীর শান্তিরক্ষী সদস্যদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনুসৃত এ আদর্শে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ১৯৮৮ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, আনুগত্য, সাহসিকতা এবং অসামান্য অবদান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। পাশাপাশি শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের শান্তিরক্ষীরা একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানও নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ। অর্পিত দায়িত্বের প্রতি নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও মানবিক আচরণ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের এ সাফল্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আগামী দিনগুলোতেও আমাদের শান্তিরক্ষীরা সততা, কর্মদক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার এ ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে আস্থা প্রকাশ করেন। তিনি ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৪’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ১২:০০ ভোর
যোহর ১২:০০ দুপুর
আছর ১২:০০ বিকেল
মাগরিব ১২:০০ সন্ধ্যা
এশা ১২:০০ রাত

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪

দৈনিক আমাদের সংবাদের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ফেসবুক পেজে
বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ রোল মডেল: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ রোল মডেল: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। শেখ হাসিনা সংলাপের মাধ্যমে সকল দ্বন্ধ-সংঘাত নিরসন, চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং অস্ত্র প্রতিযোগিতার অর্থ মানবজাতির কল্যাণে ব্যয় করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আভ্যন্তরীণ শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি বৈশি^ক শান্তি প্রতিষ্টার প্রচেষ্টায় একটি দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য নাম। আমরা সর্বজন স্বীকৃত এবং বিশ্বের বুকে একটি রোল মডেল।’ প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৪’ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি বলেন, জাতির পিতার পররাষ্ট নীতি ’সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’, বিশ^শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতার অঙ্গীকার ও আমাদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করে বাংলাদেশ জাতিসংঘের ‘ব্লু হেলমেট’ পরিবারের সদস্য হয়। সরকার প্রধান বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ১৩টি স্থানে ৪৯৩ জন নারীসহ ৬০৯২ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা যেখানে কাজ করছে সেসব রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রশংসা শুনে গর্বে আমার বুকটা ভরে যায়।’ শেখ হাসিনা বলেন, শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আজ একটি দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য নাম। আমরা সর্বজন স্বীকৃত এবং বিশে^র বুকে রোল মডেল। এই অর্জনের পেছনে রয়েছে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর টেকসই. পরিশ্রমী নিবেদিত প্রাণ সদস্যদের মহান আত্মত্যাগ ও অমূল্য অবদান। তিনি ১৬৮ বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের অবদানের কথা স্মরণ করেন যারা বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগ করেছেন এবং ২৬৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শান্তিরক্ষায় অবদান রাখতে গিয়ে আত্মোৎসর্গকারীদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও সমবেদনা জানান তিনি। স্বজন হারাবার বেদনা যে কি, তিনি তা জানেন বলেও এ সময় উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জাতিসংঘ শাস্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ৩৬ বছর উদযাপন করছি। বাংলাদেশ আজ বিশে^র বৃহৎ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারি দেশ এবং সকলে অত্যন্ত সুনাম ও গৌরবের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। তিনি এ সময় বিশে^র নানা প্রান্তে কর্মরত সকল বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের শুভেচ্ছা জানান। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণ করে আমরা বিশ^ শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছি। শান্তিরক্ষা মিশন ছাড়াও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরাম গুলোতেও আমরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ ও অবদান রাখছি। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশের জাতিসংঘে ‘কালচার অব পিস’ (শাস্তির সংস্কৃতি) প্রস্তাব উত্থাপন করে যা ১৯৯৯ সালে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, সেই থেকে প্রতিবছর জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘ফ্লাগশিপ রেজ্যুলেশন’ এই ‘কালচার অব পিস’ সর্বস্মতিক্রমে গৃহীত হয়ে আসছে। পরবর্তীতে জাতিসংঘ ২০০০ সালকে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার অব কালচার অব পিস’ হিসেবে ঘোষণা করে। যার মাধ্যমে শান্তির সংস্কৃতি প্রস্তাবের ২৫ তম বর্ষ উদযাপিত হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এজেন্ডা ২০৩০ বাস্তবায়নে কালচার অব পিস প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য বলে আমার বিশ্বাস।’ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গুয়েন লুইস। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আহত তিন জনের হাতে সম্মাননা তুলে দেন। তিনি ইউএন পিস কিপার্স জার্নাল এর (১০ম ভলিউম) মোড়কও উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগকারী বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের কৃতিত্বের ওপর একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র ও প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে কর্মরত বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদেও সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। জাতির পিতা নিজেকে বিশ্বের শোষিত-বঞ্চিত ও নির্যাতিত মানুষের দূত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘জাতির পিতা বলতেন-বিশ্ব আজ দু’ভাগে বিভক্ত শোষক ও শোষিত, আমি শোষিতের পক্ষে।’ তাই সব সময় তিনি শোষিত মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতা রোধ, সাম্য-মৈত্রী, গণতন্ত্র রক্ষা এবং বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ ‘বিশ্ব শান্তি পরিষদ’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৩ সালের ২৩ মে ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদকে ভূষিত করে। জাতির পিতা সেই পদক উৎসর্গ করেছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী বীর শহীদ এবং সেনানীদের। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দ্বন্দ্ব সংঘাত, যুদ্ধ আজ বিশ্ব শান্তি বিঘ্নিত করছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজার ইসরায়েলি হামলায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু। সেখানে গণহত্যা চলছে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা ইত্যাদি মানবজাতির জন্য এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, আমি ঠিক জানি না এই সংঘাত বা যুদ্ধ মানব জাতির জন্য কী কল্যাণ বয়ে আনছে। অস্ত্র প্রতিযোগিতা প্রতিনিয়ত যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, ততই মানুষের জীবন আরো বেশি দুর্বিসহ হয়ে উঠছে। বিশেষকরে নারী-শিশুরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। যুবকরা অকাতরে জীবন দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যুদ্ধ চাইনা, শান্তি চাই। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সব কিছু সমাধান করতে চাই। তিনি বলেন, বিশে^ এখনও বিপুল সংখ্যক মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে রয়েছে। কোটি কোটি মানুষ দু’বেলা খাবার পায় না। রোগের চিকিৎসা পায় না। শিশুরা শিক্ষা পায় না। তারা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। যারা অস্ত্র তৈরি এবং অস্ত্র পতিযোগিতায় এত অর্থ ব্যয় করছে তাদের কাছে আমার আহ্বান-আমরা শান্তির কথা বলি কিন্তু সংঘাতে লিপ্ত হই কেন? সরকার প্রধান বলেন ‘এই যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে এই অর্থ যদি ক্ষুধার্ত মানুষের আহারের ব্যবস্থা, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থায় ব্যয় হতো তাহলে এই পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতো। মানুষের জীবনমান উন্নত হতো। মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচতে পারতো। কিন্তু এই সংঘাত প্রতিনিয়ত মানুষকে আরো কষ্টের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কাজেই আমি সবসময় যেখানেই যাই এই একটি আহবানই জানাই সংঘাত নয়, যদি কোন সমস্যা থাকে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার। সেটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কাজ।’ তিনি আরও বলেন, ‘সেই সাথে এই অস্ত্র তৈরি আর প্রতিযোগিতার অর্থ যে সমস্ত দেশ এখনো জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে সেই জলবায়ুর অভিঘাত থেকে মানবজাতিকে রক্ষার জন্য সেই তহবিলে সেই অর্থ দিতে পারেন। তাছাড়া ক্ষুধার্ত ও শিক্ষাবঞ্চিত যে সমস্ত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নয়নে ব্যবহার করতে পারেন। সেই আহবান আজকে আমি সকলকে জানিয়ে যাচ্ছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, নারীর অধিকার এবং লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতে তাঁর সরকারের পদক্ষেপ ‘উইমেন পিস এন্ড সিকিউরিটি এজেন্ডা’ তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বর্তমানে অন্যতম বৃহৎ নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণকারি দেশ হিসেবেও পরিচিতি লাভ করছে। এই পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বমাট ৩ হাজার ৩৮ জন নারী শান্তিরক্ষী সফলতার সঙ্গে মিশন সম্পন্ন করেছেন। এজন্য আরো অধিক পরিমানে নারী শান্তি রক্ষী প্রেরণেরও দাবি উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দি সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস’ এর আহবানে একাত্মতা ঘোষণা করে দারিদ্রের অবসান, পরিবেশ ও জলবায়ু রক্ষা এবং জনগণের শান্তি ও সম্প্রীতি নিশ্চিতকল্পে বাংলাদেশে নিয়োজিত জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি এই মহতী উদ্যোগে বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য বাংলাদেশে নিয়োজিত জাতিসংঘের বিভন্ন সংস্থাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও জানান। দেশব্যাপী কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা এবং সেখান থেকে জনগণকে ৩০ প্রকারের ওষুধ বিনামুল্যে প্রদানে সরকারের পদক্ষেপের উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, আমাদের কমিউনিটি ক্লিনিকের অনুকরণে সম্প্রতি সেন্ট্রাল আফ্রিকা রিপাবলিকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সহায়তায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সে দেশের প্রেসিডেন্টের নামে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক চালুর জন্যও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে জাতির পিতার প্রতি এই সম্মাননা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য একটি গৌরবের অধ্যায়।’ শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব শান্তি নিশ্চিত করা এখন অতীতের চেয়ে অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তির সাম্প্রতিক প্রসার ও অগ্রযাত্রার সাথে সাথে বাড়ছে নতুন নতুন হুমকি। ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনগুলোতে শান্তিরক্ষীদের বহুমাত্রিক জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হচ্ছে। তাই শান্তিরক্ষা মিশনগুলো উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে সমৃদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা এখন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিশন এলাকার পরিবেশ, আবহাওয়া এবং ভূমির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নত প্রযুক্তির সামরিক সরঞ্জামাদি ও পোষাকসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট সমূহে অত্যাধুনিক ‘মাইন রেসিষ্ট্যান্ট অ্যামবুশ প্রটেকটেড’ যানবাহন এবং শান্তিরক্ষীদের যোগাযোগের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন এবং প্রশিক্ষণ একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীগণ যাতে বিশে^র সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং এবং বিপজ্জনক অঞ্চলসমূহে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে সেজন্য তাদের সময়োপযোগী প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ সময় তিনি শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণে ’৯৬ সালে প্রথমবার সরকারে এসেই ‘বিপসট’ (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং) প্রতিষ্ঠার উল্লেখ করেন। যা এখন আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেয়েছে।

দক্ষ কর্মীর নতুন শ্রমবাজার জার্মানি

দক্ষ কর্মীর নতুন শ্রমবাজার জার্মানি

বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে দেখা দিয়েছে জনবলের অভাব। বিশেষ করে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন কারিগরি বিষয়ে অভিজ্ঞ জনবল। এতেই বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার শ্রমবাজার হয়েছে জার্মানি। কর্মী সংকটে থাকা জার্মানি ওয়েল্ডিং, কন্সট্রাকশন, প্লাম্বার, কারপেন্টারসহ বিভিন্ন ট্রেডে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে কর্মী পাঠানোর ব্যাপারে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি। জানা যায়, কয়েক বছর ধরেই জার্মানিতে কর্মী সংকটের বিষয়ে আলোচনা চলছিল। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নিয়মনীতির কারণে কর্মী নেওয়ার বিষয়ে জটিলতাও তৈরি হয়। কিন্তু জার্মান ইকোনমিক ইনস্টিটিউটের মতে, শ্রমবাজারে প্রবেশকারী তরুণদের তুলনায় বেশি বয়স্ক কর্মী অবসর গ্রহণ করছেন। দক্ষ কর্মীর ঘাটতি এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছে, যে কোনো সময় এটি নাটকীয়ভাবে অর্থনীতিকে খুব দুর্বল করে দিতে পারে। সেজন্য এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি বছর অন্তত ৪ লাখ দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হবে। চলতি মাসের শুরুতেই জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলজ কর্মী সংকট কাটাতে বিদেশি কর্মী নেওয়ার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন। জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, জার্মানির উন্মুক্ত অর্থনীতি পৃথিবীবিখ্যাত। আমাদের শিল্পের উন্নয়নে এটা দারুণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে সারা বিশ্বের শ্রম ও দক্ষ শ্রমিকের বাজার হিসেবেও আমাদের দেশ বেশ আকর্ষণীয়। তাই সরকার ও ইউরোপীয় ইউনিয়নবিরোধীদের বিষয়ে বলতে চাই, তারা দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ সংকটের বিষয়টি বুঝবে না। শিল্পকে মজবুত করতে হলে আমাদের বিদেশি দক্ষ জনবল আনার বিকল্প দেখছি না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জার্মানিসহ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের চারটি দেশ বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। বৈধ পথে ইউরোপে অভিবাসনে সহায়তার জন্য ইইউ ২০২১ সালে ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ নামে বিশেষায়িত কর্মসূচি শুরু করেছে। এর আওতায় থাকা সাত দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। বাংলাদেশ জাহাজ নির্মাণ, বস্ত্র ও তৈরি পোশাক, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, নির্মাণ খাত, পর্যটন ও কৃষি- প্রাথমিকভাবে এই ছয় খাতে দক্ষ কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাবে। এখন বাংলাদেশ থেকে কোন প্রক্রিয়ায় লোক পাঠানো হবে, তা নিয়ে ইইউর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে ঢাকার রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো বলছে, বেসরকারিভাবে জার্মানির কোম্পানিগুলো এরই মধ্যে কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। রিক্রুটিং এজেন্সি এশিয়া কন্টিনেন্টাল গ্রুপ (বিডি)-এর কর্মকর্তারা জানান, ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ থেকে ৩০০ দক্ষ কর্মী নেওয়ার চাহিদাপত্র পাওয়া গেছে। এ চাহিদাপত্রের বিপরীতে ওয়েল্ডিং, কন্সট্রাকশন, প্লাম্বার, কারপেন্টারসহ কয়েকটি ট্রেডে দক্ষ কর্মীদের ইন্টারভিউ নিতে চলতি সপ্তাহেই জার্মান কোম্পানির প্রতিনিধিরা আসছেন। কন্সট্রাকশন ওয়ার্কারদের বেতন হবে ১৫০০ ইউরো। ওয়েল্ডিং ওয়ার্কারদের বেতন হবে ১০০০ ইউরো। কর্মীদের জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা কারিগরি সার্টিফিকেট প্রয়োজন হবে।

দৈনিক আমাদের সংবাদের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ফেসবুক পেজে
তারেক জিয়াকে দেশে এনে বিচারের আওতায় আনতে হবে: পরশ

তারেক জিয়াকে দেশে এনে বিচারের আওতায় আনতে হবে: পরশ

যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেছেন, তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনতে হবে, এটা এ সময়ের দাবি। মঙ্গলবার পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে নড়াইল জেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কর্মীরা এ সময় জাতীয় সঙ্গীত ও নাচ পরিবেশন করেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, বিএনপি সব সময়ই ষড়যন্ত্র করে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চায়, যুবলীগ কর্মীরা সজাগ থাকলে জামায়াত-বিএনপির সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে যাবে। নড়াইলের ভিক্টোরিয়া কলেজের সুলতান মঞ্চে জেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম। উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক। সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিল। জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় সংসদের হুইপ মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, ফরিদপুর-০৪ আসনের সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরী, নড়াইল-০১ আসনের সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, সাধারণ সম্পাদক নিজামউদ্দিন খান নিলু, কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পালসহ অনেকে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর জেলা যুবলীগের সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে।

দৈনিক আমাদের সংবাদের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ফেসবুক পেজে
দৈনিক আমাদের সংবাদের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ফেসবুক পেজে
দৈনিক আমাদের সংবাদের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ফেসবুক পেজে
ঢাকায় ১১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত

ঢাকায় ১১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত

গভীর স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে রাজধানী ঢাকায় সকাল থেকে ১১৬ মিলিমিটার অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সোমবার ভোর থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ঢাকায় ১১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আমাদের হিসেব অনুযায়ী এটি অতি ভারী বৃষ্টিপাত। এরমধ্যে ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এরপর দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অবশ্য সন্ধ্যার পরও ঢাকায় বৃষ্টি থাকবে বলেও জানান তিনি। এর আগে, সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল শক্তি হারিয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি বিকেল ৩টা নাগাদ ঢাকার ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। এসময় ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিপাত হবে। তবে এটি তেমন কোনও প্রভাব ফেলবে না। একইসাথে আগামীকাল সকালের পর থেকে ঢাকার আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে পারে বলেও জানান তিনি। প্রসঙ্গত, আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী- কোনও অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টায় ১-১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতকে হালকা, ১১-১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতকে মাঝারি, ২৩-৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতকে মাঝারি ধরনের ভারী, ৪৪-৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতকে ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হিসেবে গণ্য করা হয়।

পানির নিচে ঢাকার সড়ক অলি-গলি, তীব্র ভোগান্তি পথে পথে

পানির নিচে ঢাকার সড়ক অলি-গলি, তীব্র ভোগান্তি পথে পথে

মাঝ জ্যৈষ্ঠে দিনব্যাপী এমন বৃষ্টি প্রত্যাশা করেনি রাজধানীবাসী। যদিও ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে রাজধানীতেও বৃষ্টি হবে বলে আগেই জানিয়েছিল আবহাওয়া অফিস। সে অনুযায়ী ভোররাত থেকে বিরতিহীনভাবে বৃষ্টি ঝরছে রাজধানীতে। টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। ডুবে গেছে বহু সড়ক ও অলি-গলি। সেইসঙ্গে তৈরি হয়েছে গণপরিবহন সংকট। রাজধানীর বাড্ডা, গ্রিনরোড, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি ২৭, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, মিরপুর ১০, ১৩ ও ১৪ নম্বর, মালিবাগ, শান্তিনগর, সায়েদাবাদ, শনির আখড়া, পুরান ঢাকা, বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড, হাতিরঝিলের কিছু অংশ, আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেট যেতে নতুন রাস্তা, খামারবাড়ি থেকে ফার্মগেট, ফার্মগেট-তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা, মোহাম্মদপুরের কিছু অংশ, মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকা, মোহাম্মদপুর, ইসিবি, গুলশান লেকপাড় এলাকার সংযোগ সড়ক এবং এসব সড়কের আশপাশের অলি-গলিতে পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। রাস্তাঘাটে পানি জমায় সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নানা বিড়ম্বনায় পড়েছেন কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষ। অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে ভ্যান দিয়ে সড়ক পারাপার হতে দেখা গেছে নগরবাসীকে। একদিকে টানা বৃষ্টি, অন্যদিকে জলাবদ্ধতা- দুইয়ের যোগফল হিসেবে রাজধানীর সব সড়কেই কমে গেছে গণপরিবহন। এই সুযোগে বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন ঢাকার রিকশা ও সিএনজিচালকরা। গুলশানের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী মোয়াজ্জেম হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার বাসা মোহাম্মদপুরে। সকালে অফিসে আসার সময় ভোগান্তিতে পড়েছিলাম। বৃষ্টির কারণে অনেক রাস্তায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। সড়কে বাস কম। অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে রিকশাচালকরা। প্রথমে বাসা থেকে বের হয়ে ডাবল ভাড়ায় রিকশায় চড়ে মোড়ে এসেছি। পরে বাস না পেয়ে সিএনজিতে চড়ে বেশ কয়েকটি ডুবো রাস্তা পেরিয়ে গুলশানের অফিসে এসেছি। সিএনজি ভাড়া হওয়ার কথা সর্বোচ্চ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা। সেই ভাড়া আমার কাছ থেকে নিয়েছে ৪০০ টাকা। বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রয়োজনে কাজে বের হওয়া এমন বহু মানুষ। মূল সড়ক ছাড়া অলিগলিতেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় চলাফেরা করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। গণপরিবহনে উঠতে পোহাতে হচ্ছে তীব্র ভোগান্তি। রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ থেকে কারওয়ান বাজার, এরপর হাতিরঝিল হয়ে বাড্ডা এলাকায় আসা সুজন আহমেদ নামে একজন বলেন, যে রাস্তা দিয়ে সিএনজিতে চড়ে এসেছি তার বেশিরভাগ সড়কেই জলাবদ্ধতা দেখেছি। পথে পথে মানুষের ভোগান্তি। পানির কারণে যানবাহন যাওয়ার পর ঢেউ আছড়ে পড়ছে ফুটপাতে। বাস না পেয়ে দ্বিগুণ ভাড়ায় সিএনজি করে আসলাম। এদিকে কোথাও জলাবদ্ধতা হলে, পানি জমে থাকলে হটলাইনে যোগাযোগ করার (১৬১০৬) আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। তারা জানিয়েছে, জলাবদ্ধতা যেন সৃষ্টি না হয় সেজন্য কাজ করছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) কুইক রেসপন্স টিম। সোমবার (২৭ মে) সকাল থেকে ডিএনসিসির আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় এই টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মুখপাত্র মকবুল হোসাইন। তিনি জানান, ডিএনসিসির ১০টি কুইক রেসপন্স টিম এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে। কোথাও পানি জমে থাকলে ডিএনসিসির হটলাইন ১৬১০৬ নম্বরে ফোন করুন, দ্রুত সময়ের মধ্যে কুইক রেসপন্স টিম পৌঁছে যাবে।

দৈনিক আমাদের সংবাদের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ফেসবুক পেজে
‘কৃষ্ণচূড়ার আগুনে, লাগে রঙ ফাগুনে এই মনে’

‘কৃষ্ণচূড়ার আগুনে, লাগে রঙ ফাগুনে এই মনে’

ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা পরীমনি। কাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সরব তিনি। মাঝে মধ্যেই নিজের ছবি, ভিডিও কিংবা অনুভূতি শেয়ার করেন ভক্তদের সঙ্গে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার কৃষ্ণচূড়ার সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করলেন এই অভিনেত্রী। নতুন করে এলেন আলোচনায়। মঙ্গলবার (২৮ মে) নিজের ফেসবুকে বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেছেন পরীমনি। আর ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘কৃষ্ণচূড়ার আগুনে, লাগে রঙ ফাগুনে এই মনে, এই বনে।’ ছবি পোস্টের পরপরই ভক্ত-অনুরাগীরা সবাই তার রূপের প্রশংসা করছেন। রুজিনা আক্তার সুমি নামের একজন লিখেছেন, পরী সত্যিকারেই পরী। এ্যানি খানম লিজা নামের আরেকজন লিখেছেন, কী সুন্দর লাগছে পুরো ডানা কাটা পরী। খাদেমুল ইসলাম নামের আরেক ভক্ত লিখেছেন, কৃষ্ণচূড়া এবার পরিপূর্ণতা পেলো। প্রসঙ্গত, পরীমনি বর্তমানে ওয়েব সিরিজ ‘রঙিলা কিতাব’-এর শুটিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এটি নির্মাণ করছেন ‘দেবী’খ্যাত নির্মাতা অনম বিশ্বাস। যেখানে পরীমণিকে দেখা যাবে সুপ্তি নামের একটি চরিত্রে।

অবশেষে মিলে গেলেন দুই নায়িকা

অবশেষে মিলে গেলেন দুই নায়িকা

মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে নায়িকা মিষ্টি জান্নাতকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন আরেক নায়িকা তমা মির্জা। পরে পাল্টা ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে তমা মির্জাকে আইনি নোটিশ পাঠান মিষ্টি। অবশেষে তাদের সেই বিবাদ মিটে গেল। মঙ্গলবার বিকেলে শিল্পী সমিতির উদ্যোগে তমা-মিষ্টির বিবাদ সমঝোতা করা হয়েছে। এ সময় তমা মির্জা ও মিষ্টি জান্নাত দুজনেই উপস্থিত ছিলেন। তমা বলেন, মিষ্টি আমার ছোট বোন, তার ভুল আমি ক্ষমা করেছি। আমরা একে অপরের উপর নির্ভরশীল তাই আমরা আমাদের সংগঠন শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে বসে আমাদের দুইজনের সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির অবসান করেছি। এদিকে মিষ্টি বলেন, আমাদের মধ্যে কিছুটা ভুল ভ্রান্তি হয়েছিল। সেই বিষয়ে আমিও ক্ষমাপ্রার্থী। আমাদের অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে সমঝোতা করলাম। বিষয়টি নিয়ে শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর বলেন, তমা মির্জা ও মিষ্টি জান্নাত দুজনেই বুঝতে পেরেছে বিষয়টি করা উচিৎ হয়নি। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আজ শিল্পী সমিতি তাদের বিষয়টি সমাধান করেছে। দিন শেষে আমরা সবাই শিল্পী। আমরা এক পরিবারের সদস্য। সবাই আনন্দ নিয়ে ঘরে ফিরতে পারাটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।’

অভিভাবকের ভূমিকায় শিল্পী সমিতি, মিলে গেলেন তমা-মিষ্টি

অভিভাবকের ভূমিকায় শিল্পী সমিতি, মিলে গেলেন তমা-মিষ্টি

মানহানিকর মন্তব্যের কারণে মিষ্টি জান্নাতের ওপর চটেছিলেন তমা মির্জা। রেগেমেগে দশ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন আইনি নোটিশ। তাতে বলা হয়েছিল, জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে হবে মিষ্টিকে। ওদিকে আরেক কাঠি সরেস মিষ্টি জান্নাত। কম যাননি তিনিও। নিজেকে সেরের ওপর সোয়া সের প্রমাণ করতে তমার নামে ঠুকে দেন ২০ কোটি টাকার মানহানির মামলা। দুই নায়িকার এই যুদ্ধংদেহী অবস্থানে সামাজিক মাধ্যম যখন রীতিমতো উত্তপ্ত তখন লাগাম টানল শিল্পী সমিতি। জানা গেছে সমিতির উদ্যোগে সমঝোতা হয়েছে এ দুই নায়িকার। এ প্রসঙ্গে তমা বলেন, ‘মিষ্টি আমার ছোট বোন, তার ভুল আমি ক্ষমা করেছি। আমরা একে অপরের উপর নির্ভরশীল তাই আমরা আমাদের প্রিয় সংগঠন শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে বসে আমাদের দুইজনের সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির অবসান করেছি।’ মিষ্টি জান্নাতও মিষ্টি করে বলেন, ‘তমা আপু আমার বড় আপু, আমাদের মধ্যে কিছুটা ভুল ভ্রান্তি হয়েছিল। সেই বিষয়ে আমিও ক্ষমাপ্রার্থী। আমাদের অভিভাবকদের সাথে নিয়ে সমঝোতা করলাম।’ মিষ্টির ঠিকানায় তমা আইনি নোটিশ পাঠান ২২ মে। নোটিশে সামাজিক মাধ্যমে থাকা দুটি ভিডিও বক্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়। ‘আপনার বয়ফ্রেন্ডকে বিয়ে করব না, তমা মির্জাকে খোঁচা দিয়ে মিষ্টি জান্নাত’ এবং ‘চেটে চেটে নায়িকা হয়েছে তমা মীর্জা:জান্নাত’ শীর্ষক শিরোনামে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মানহানিকর বক্তব্য রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন আইনজীবী। নোটিশে বলা হয়েছিল, এসব বক্তব্যে সাংবাদিক ও দেশের জনগণের কাছে তার (তমা মির্জার) সুনাম নষ্ট হয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য তমার চরিত্র ও ব্যক্তিত্বে আঘাত হেনেছে। এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে ডিজিটাল মিডিয়ায় এসব মানহানিকর বক্তব্য হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। এতে ১০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে। এরপর গতকাল ২৭ মে তমার ঠিকানায় ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠান মিষ্টি জান্নাত। সেখানে বলা হয়, তমা মির্জা মিষ্টির নামে অসত্য অভিযোগ এনে নোটিশ পাঠিয়েছেন। এটা তুলে নেওয়া ও ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ কোটি টাকা না দিলে তমার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা (মামলা) নেবেন মিষ্টি। অবশেষে অভিভাবকের ভূমিকায় শিল্পী সমিতি। সমস্ত দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে মিলিয়ে দিল দুই নায়িকাকে।

দৈনিক আমাদের সংবাদের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ফেসবুক পেজে
২৫ বছরেও এগোয়নি বাংলাদেশের ক্রিকেট: স্টুয়ার্ট ল

২৫ বছরেও এগোয়নি বাংলাদেশের ক্রিকেট: স্টুয়ার্ট ল

আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্টুয়ার্ট ল। তার দেশেই অনুষ্ঠিত হবে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের বিশ্বকাপের এবারের আসর। টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য দ্বিতীয় রাউন্ড। এবারও একই লক্ষ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছে। এদিকে আইসিসির এই মেগা আসর শুরুর আগে বড়সড় হোঁচট খেয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ব ক্রিকেটের নবীন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। প্রতিপক্ষ দলের দায়িত্বে টাইগারদের সাবেক কোচ স্টুয়ার্ট ল। এমন বিপর্যয়ের পর বাংলাদেশকে নিয়ে বিধ্বংসী মন্তব্য করেছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন ল। সেখানে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট ২৫ বছরেও এগোয়নি। তারা যত কিছুই করুক না কেন, সেসব কাজে লাগেনি।’ এরপর তিনি বলেন, ‘হয়তো বসে চিন্তা করার সময় এসেছে যে, এইভাবে আমরা এতদিন করে এসেছি, এটা কাজ করছে না। হয়তো আমাদের কিছুটা ভিন্নভাবে এটা করা প্রয়োজন। বর্তমানে যারা নীতি-নির্ধারক আছেন তাদেরকে খাটো করতে বলছি না। কিন্তু তাদের খেলার সবদিক নিয়ে দেখা দরকার।’ ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানকে হারিয়ে আইসিসির ৫০ ওভারের টুর্নামেন্টে অভিষেক হয়েছিল বাংলাদেশ। অথচ এখনও নকআউট পর্ব পেরোতে টাইগার ক্রিকেটকে সংগ্রাম করতে হচ্ছে বলে মত বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের এই কোচের। এমন অবস্থা বদলানোর উপায়ও বললেন স্টুয়ার্ট ল, ‘বাংলাদেশিরা শারীরিকভাবে শক্তিশালী নন। কিন্তু তারা ভালো স্পিন বোলিং পারে, এটা আমরা সবাই জানি। তারা কখনোই পাওয়ারফুল খেলোয়াড় হবে না ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান অথবা অস্ট্রেলিয়ানদের মতো। যারা ভিন্নভাবে বেড়ে ওঠে ও খাওয়াদাওয়া–ও ভিন্ন।’ বাংলাদেশের কিছু বিশেষ জায়গায় ঘাটতি থাকলেও, প্রতিভার অভাব দেখেন না ২০১১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধান কোচ ল, ‘সেখানে অনেক প্রতিভা আছে, ১৭ কোটি মানুষ বাংলাদেশের এবং তারা ক্রিকেটপাগল। শুধু তাদের বের করে আনতে হবে। যদি তারা সঠিক প্রতিভা খুঁজে পায় তাহলে সাফল্য আসবে।’ উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের কোচ হিসেবে বাংলাদেশের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সিরিজটি ছিল স্টুয়ার্ট ল’র প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট। এর আগে তিনি বাংলাদেশে ২০১১ সালে কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। ছিলেন ২০১২ পর্যন্ত। তার অধীনেই সর্বশেষ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলেছিল বাংলাদেশ। টাইগারদের সম্পর্কে বেশ ভালো ধারণা রাখেন সাবেক এই কোচ। বাংলাদেশ সম্পর্কে তার ধারণা ভবিষ্যতে কতটুকু কাজে লাগে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আগামী ২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-২০ বিশ্বকাপে টাইগারদের প্রথম ম্যাচ ৮ জুন, প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা।

শ্রীলংকাকে হারাল নেদারল্যান্ডস, বাংলাদেশের জন্য সাবধানবাণী

শ্রীলংকাকে হারাল নেদারল্যান্ডস, বাংলাদেশের জন্য সাবধানবাণী

গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে হারিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। জায়ান্ট কিলার হিসেবে বেশ খ্যাতি আছে ডাচদের। আর টি-২০ ক্রিকেটে বড় দল-ছোট দলের ব্যবধান কমে আসে আরো। তবে চমক দেখাতে বিশ্বকাপ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে নারাজ স্কট অ্যাডওয়ার্ডসের দল। গা গরমের ম্যাচেই দারুণ এক চমক উপহার দিয়েছে নেদারল্যান্ডস। শ্রীলংকাকে হারিয়েছে তারা। মঙ্গলবার (২৮ মে) রাতে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল প্রস্তুতি ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয়েছিল শ্রীলংকা। সেই ম্যাচে লংকানদের হারিয়ে চমক দেখিয়েছে ডাচরা। ফ্লোরিডার সেন্ট্রাল ব্রোওয়ার্ড রিজিওনাল পার্ক স্টেডিয়ামে লংকানরা ২০ রানে হেরেছে। আগে ব্যাট করে নেদারল্যান্ডস করেছিল ১৮১ রান। জবাবে ১৮.৫ ওভারে ১৬১ রানেই গুটিয়ে যায় ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার দল। বিশ্বকাপে একই গ্রুপে আছে শ্রীলংকা ও নেদারল্যান্ডস। ডি গ্রুপে দল দুটির বাকি সঙ্গীরা হচ্ছে বাংলাদেশ, নেপাল ও দক্ষিণ আফ্রিকা। গত বছর অক্টোবর -নভেম্বরে ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে হারিয়ে দিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। প্রস্তুতি ম্যাচে শ্রীলংকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপের মূল ম্যাচের আগেও যেন টাইগারদের হুমকি দিয়ে রাখল ডাচরা। বিশ্বকাপে সুপার এইটে জায়গা করে নিতে হলে পাঁচ দলের গ্রুপে কমপক্ষে দ্বিতীয় স্থানে থাকতে হবে। সুপার এইটকে পাখির চোখ করা বাংলাদেশকে সেক্ষেত্রে নেপাল ও নেদারল্যান্ডসকে হারানোর পাশাপাশি শ্রীলংকা বা দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে এক দলকে হারাতে হবে। সেই কাজটা যে সহজ হবে না তা শ্রীলংকাকে হারিয়ে বুঝিয়ে দিল স্কট অ্যাডওয়ার্ডসের দল। এদিকে আগামী ৮ জুন শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ডালাসে শুরু হবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটা ১৩ জুন। বিশ্বকাপের মূল পর্ব শুরু হওয়ার আগে বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও নেদারল্যান্ডসের আরো একটি করে প্রস্তুতি ম্যাচ বাকি আছে। ১ জুন নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। তার আগে ৩১ মে শ্রীলংকা খেলবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, আর নেদারল্যান্ডসের প্রতিপক্ষ কানাডা।

শিরোনাম

শেখ হাসিনা ফের প্রধানমন্ত্রী হলে শিক্ষকদের সব দাবি পূরণ হবে
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বর্তমান সরকারকে আবারো ক্ষমতায় আনতে হবে
কানাডায় পোশাক রপ্তানিতে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে
চাহিদাভিত্তিক শ্রমশক্তি গড়তে ৩০ কোটি ডলার দেবে এডিবি
দক্ষিণ আফ্রিকা সফর ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দ্বার উন্মোচন:শেখ হাসিনা
বুধবার বাংলাদেশি টাকায় মুদ্রা বিনিময় হার
পদোন্নতি পেলেন স্বাস্থ্য সচিব আনোয়ার হোসেন
ইতালির ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
সরকার টিসিবির জন্য ১২১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার তেল ও ডাল কিনবে
সর্বজনীন পেনশন নিয়ে অপপ্রচার রোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
জামানত বেড়েছে সংরক্ষিত নারী আসনে